হট ফেভারিট দুই দল ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে লা রোজারা।
১৪ জুলাই রাত ১ টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে যে জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখতে পাওয়া গেল না। নির্বিষ ফ্রান্সকে পুরোটা সময় স্রেফ নাচিয়ে ছাড়ল স্পেন। দুই অর্ধে একবার করে জাল কাঁপিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ফরাসি রক্ষণভাগ। ২০ মিনিটে মিকেল ওইয়েরজাবালের দুর্দান্ত এক দৌড় থামাতে না পেরে বক্সের ভেতর লাথি মেরে বসেন লুকাস দিনিয়ে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে ভুল করেননি। স্নায়ুচাপের চরম মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় আগুনে গতিতে শট নিয়ে স্পেনকে লিড এনে দেন ওইয়েরজাবাল। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিওঁ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও বলের গতি ছুঁতে পারেননি।
১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পর স্পেনের ফুটবল দর্শন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—‘বল দখলে রাখো, ধৈর্য ধরো এবং সময়কে নিজের পক্ষে টেনে আনো।’ কোচের সেই দর্শনেরই নিখুঁত প্রতিচ্ছবি দেখা গেল দলের দ্বিতীয় গোলে। দানি অলমোর এক ছোঁয়ার পাস থেকে পেদ্রো পোরো কোনো তাড়াহুড়ো না করে বল জালে জড়ান।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু গোলরক্ষক সিমনের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে পাওয়া ফাঁকা বল জালে জড়াতে এক মুহূর্ত দেরি করে ফেলেন দেজিরে দুয়ে। আর তাতেই হাতছাড়া হয় ম্যাচ ফেরার শেষ সুযোগ।
এই জয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো স্পেন। সেবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এবারও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালের মঞ্চে নামবে লামিনে ইয়ামাল, ওইয়ারসাবাল ও পোরোদের স্পেন।












